মোবাইল ফোন চার্জ না হলেও বিদ্যুৎ টানে চার্জার !
ফোনের চার্জ সম্পূর্ণ হওয়ার পরও অনেকেই চার্জারটি সকেট থেকে খুলে রাখেন না। কিন্তু কোনো ডিভাইস সংযুক্ত না থাকলেও প্লাগে লাগানো চার্জার কি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে? প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট বলছে, উত্তর হলো—হ্যাঁ। ডিভাইস সংযুক্ত না থাকলেও চার্জার সকেটে লাগানো থাকলে অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। এই বিদ্যুৎ খরচ হওয়াকে বলা হয় স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার। চার্জারের ভেতরের ট্রান্সফরমার ও ইলেকট্রনিক সার্কিট সবসময় সক্রিয় থাকে, যাতে ডিভাইস সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চার্জিং শুরু করা যায়। তবে এতে বিদ্যুৎ খরচ খুবই কম। সাধারণত ১টি চার্জার স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় ০.১ থেকে ০.৫ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যা দিনে প্রায় ২ থেকে ২৪ ওয়াট-আওয়ার বিদ্যুতের সমান। একটি চার্জারের ক্ষেত্রে এ খরচ খুব বেশি মনে না হলেও, একটি বাড়িতে যদি একাধিক ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ বা গেমিং ডিভাইসের চার্জার সারাক্ষণ প্লাগে লাগানো থাকে, তাহলে সম্মিলিতভাবে বিদ্যুতের অপচয় উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখা একটি ফোন চার্জারের কারণে বছরে ব্যবহারকারীর বিদ্যুৎ বিলে প্রায় ৫০ সেন্ট থেকে ৪ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হতে পারে। যদিও প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করে বিদ্যুতের স্থানীয় মূল্য এবং ব্যবহৃত চার্জারের ধরনের ওপর। শুধু চার্জারই নয়, ঘরের আরও অনেক ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার না করলেও স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার ব্যবহার করে। এর মধ্যে রয়েছে টেলিভিশন, কম্পিউটার, গেমিং কনসোল, মাইক্রোওয়েভ, কফি মেকারসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি।
কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১টি সাধারণ পরিবারের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যান্ডবাই পাওয়ারের পেছনে ব্যয় হতে পারে। বিদ্যুতের অপচয় কমাতে উন্নতমানের ও শক্তি-সাশ্রয়ী চার্জার ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একাধিক ডিভাইস চার্জ করা যায়—এমন চার্জার ব্যবহার করলে চার্জারের সংখ্যা কমানো সম্ভব। এ ছাড়া স্মার্ট সকেট (Smart Outlet) ব্যবহার করলে স্মার্টফোনের মাধ্যমে দূর থেকেই চার্জারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা যায়। পাশাপাশি চার্জার নিয়মিত পরীক্ষা করে অতিরিক্ত গরম হওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা ঢিলা সংযোগের মতো সমস্যা থাকলে দ্রুত পরিবর্তন করা উচিত।
আর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো—ব্যবহার শেষে চার্জারটি সকেট থেকে খুলে রাখা। এতে যেমন অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমবে, তেমনি বৈদ্যুতিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।


