শ্যামনগর উপজেলার মথুরাপুর বাসীর স্বপ্ন টেকসেই ভেঁড়ী বাঁধ নির্মাণ

নুর আহমদ জিদান: সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রাম মালঞ্চ নদীর ভাঙনের কারণে ধীরে ধীরে বসবাসের জন্য অনুপযোগী হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই গ্রামটি নদী ভাঙনের ফলে একের পর এক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। গ্রামে কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা না থাকায় স্থানীয়রা চলাচলের একমাত্র ভরসা রাখেন ভেড়িবাঁধের ওপর। প্রতিদিন হাজারো মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধ ঝুঁকিপূর্ণ এই পথে যাতায়াত করেন। নৌকা ছাড়া অন্য কোনো দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা নেই। তাই প্রতিবন্ধী, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুরা স্কুলে যাতায়াত করতে গিয়ে নানা বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে। গ্রামের এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলেন, “বর্ষার সময়ে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আমরা স্কুলে যেতে পারি না। ভয়ে অনেক সময় ঘরে বসে থাকতে হয়। আমাদের পড়াশোনা থমকে যাচ্ছে।” শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবন নদী ভাঙনের কারণে বড় ধরনের হুমকির মধ্যে রয়েছে। গ্রামের আশেপাশে হাসপাতাল, বিদ্যালয় ও বাজার থাকলেও তার দুরত্ব গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। নদী ভাঙনের কারণে বারবার গ্রাম প্লাবিত হয়, বাড়িঘর ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মানুষের জীবন, শিক্ষা ও জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ ছাড়া তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব নয়। নদী ভাঙন রোধ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই এখন গ্রামবাসীর প্রধান দাবি। মথুরাপুরের দুর্ভোগের বিষয়ে সভাপতি কেন্দ্রীয় শিশু ফোরাম, ও সহ:সভাপতি শ্যামনগর উপজেলা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে শিশু ফোরাম  (JJS) এর নুর আহমদ জিদান বলেন, “নদী ভাঙনের কারণে গ্রামবাসী, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারী, চরম দুর্দশায় ভুগছে। তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।” গ্রামের মানুষ আশা করছেন, দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হবে এবং শিশুদের নিরাপদ ও অব্যাহত শিক্ষাজীবন নিশ্চিত হবে। মথুরাপুরবাসী মনে করেন, তারা কোনো অস্থায়ী সাহায্য চাইছে না, বরং তাদের চাওয়াটা হলো একটি শক্তিশালী বাঁধ, যা নদী ভাঙন রোধ করবে এবং তাদের জীবনকে নিরাপদ করবে।

- Advertisement -

এই বিভাগের আরও সংবাদ