বন বিভাগের মামলায় সাংবাদিকের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে সাংবাদিক সমাজের নিন্দা ও ক্ষোভ

বন বিভাগের দায়ের করা একটি মামলায় দৈনিক খুলনা প্রতিদিন পত্রিকার উপকূলীয় প্রতিনিধি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রিপনের নাম অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৮ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের অধীন পাটকোস্টা বন টহল ফাঁড়ির অভয়ারণ্য এলাকায় টহলরত বন বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে জেলেদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন এক জেলে। পরে তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও বাড়িতে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

Left

নিহত জেলে মোঃ আমিনুর রহমান (৪৫), পিতা মৃত আকছেদ গাজী। তিনি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

ঘটনার পর একই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে গাবুরা ইউনিয়নের কয়েকশ মানুষ নিহত জেলের মরদেহ নিয়ে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের সামনে সমবেত হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কয়েকজন বন কর্মকর্তা আহত হন।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রিপন দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি জানান, ঘটনার দিন তিনি খুলনায় অবস্থান করছিলেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানির জন্য মামলায় জড়ানো হয়ে থাকতে পারে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে মামলাটি পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, যদি অভিযোগের ভিত্তি না থাকে, তবে সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান রিপনের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে এবং সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

- Advertisement -

এই বিভাগের আরও সংবাদ