হুমকিতে জীববৈচিত্র্য: সুন্দরবনে সক্রিয় হরিণ শিকারী চক্র

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত হরিণ শিকারী চক্রের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় বনজ প্রাণী রক্ষায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ শিকারীরা বিভিন্ন কৌশলে সুন্দরবনে প্রবেশ করে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করছে। পরে বনেই হরিণ জবাই করে মাংস গোপনে লোকালয়ে এনে বিক্রি করা হচ্ছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিকারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে নৌকাযোগে ভোররাতে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। হরিণের চলাচলের পথে ফাঁদ পেতে তারা কিছু দূরে গাছে উঠে নজরদারি করে। ফাঁদে হরিণ আটকা পড়লেই দ্রুত সেটি জবাই করে বনেই চামড়া ছাড়িয়ে মাংস টুকরো করে লোকালয়ে নিয়ে আসে। পরে নির্দিষ্ট ক্রেতাদের কাছে গোপনে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে হরিণের মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

Left

সম্প্রতি কয়রা গ্রাম সংলগ্ন সুন্দরবনে শিকারীদের পাতা ফাঁদে একটি হরিণ আটকা পড়ে। খবর পেয়ে কাছিয়াবাদ বন টহল ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত হরিণটি উদ্ধার করেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সেটিকে পুনরায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।

বন বিভাগ জানিয়েছে, হরিণ শিকার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কাঠেশ্বর বন টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত বলেন, “সুন্দরবনে হরিণ শিকারী চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে।”

বুড়িগোয়ালিনী বন স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. এরফান উদ্দীন জানান, গাবুরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে রান্না করা প্রায় পাঁচ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষক (ডিএফও) এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, “সুন্দরবনে হরিণ শিকার প্রতিরোধে টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বনজ প্রাণী রক্ষায় অবৈধ শিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বন বিভাগের নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ছাড়া সুন্দরবনে হরিণ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শিকারী চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

- Advertisement -

এই বিভাগের আরও সংবাদ