শ্যামনগরে বৈধ যোগ্যতা ছাড়াই দন্ত চিকিৎসার অভিযোগ, চেম্বারের সাইনবোর্ডে নানা সেবা

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বৈধ নিবন্ধন ছাড়াই দন্ত চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলফাজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের শংকরকাটি বাজারে ‘আনজুমানায়ারা ডেন্টাল কেয়ার’ নামে একটি চেম্বারে তিনি রোগীদের দাঁতের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলফাজ উদ্দিনের দন্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি, সার্টিফিকেট কিংবা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (BM&DC) বৈধ নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগটি সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Left

সরেজমিনে দেখা যায়, ‘আনজুমানায়ারা ডেন্টাল কেয়ার’-এর সাইনবোর্ডে দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল, ফিলিং, আঁকাবাঁকা দাঁত সোজা করা, দাঁত বাঁধানো, ক্যাপ ও ব্রিজ এবং স্কেলিংসহ বিভিন্ন ধরনের দন্ত চিকিৎসাসেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখার সময়ও উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আলফাজ উদ্দিন এর আগে শ্যামনগর সদরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ‘আমিনা ডেন্টাল কেয়ার’-এ কিছুদিন প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এরপর কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বৈধ নিবন্ধন ছাড়াই নিজেকে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের প্রচার চালানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ভিডিও ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন, বক্তব্যে ভিন্নতা

অভিযোগের বিষয়ে আলফাজ উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ‘আনজুমানায়ারা ডেন্টাল কেয়ার’ পরিচালনা করেন। তবে কোনো রোগীর দাঁতের চিকিৎসা করেন না দাবি করে তিনি বলেন, বাইরে থেকে চিকিৎসক এসে রোগী দেখেন।

তবে ভিডিও ফুটেজে রোগীর দাঁত তোলা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে রোগীর দাঁত পরিষ্কার করছিলাম।”

চেম্বারটি তার কি না—এ প্রশ্নের জবাবে আলফাজ উদ্দিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তার নয় এবং ‘আমিনা ডেন্টাল কেয়ার’ এটি দেখভাল করে।

তবে এ বিষয়ে ‘আমিনা ডেন্টাল কেয়ার’-এর দন্ত চিকিৎসক এম. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আনজুমানায়ারা ডেন্টাল কেয়ার’ তার প্রতিষ্ঠান নয় এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততাও নেই। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আলফাজ উদ্দিনকে চেনেন বলে জানান।

এতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, সেখানে প্রকৃতপক্ষে কে রোগী দেখেন এবং আলফাজ উদ্দিনের দন্ত চিকিৎসা করার বৈধ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও BM&DC নিবন্ধন রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

নিবন্ধন ছাড়া দন্ত চিকিৎসার বিষয়ে আইন

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BM&DC) চিকিৎসক ও ডেন্টাল চিকিৎসকদের নিবন্ধন এবং চিকিৎসা পেশার মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে। কাউন্সিলের সর ৎসক ও ডেন্টাল চিকিৎসকদের নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।

BM&DC-এর প্রকাশিত নিবন্ধন সংক্রান্ত নথিতেও বলা হয়েছে, নিবন্ধন ছাড়া অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা বা ডেন্টিস্ট্রি চর্চা করলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২২ ধারার অধীনে শাস্তির বিধান রয়েছে।

তাই আলফাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, দন্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণের কাগজপত্র এবং BM&DC নিবন্ধন রয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “সার্টিফিকেট এবং বৈধ লাইসেন্স না থাকলে সে চেম্বার খুলতে পারবে না। ভুয়া দন্ত চিকিৎসক হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ‘আনজুমানায়ারা ডেন্টাল কেয়ার’-এর বৈধ কাগজপত্র, BM&DC নিবন্ধন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানের অনুমোদন পরীক্ষা করা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

- Advertisement -

এই বিভাগের আরও সংবাদ