অসহায় নারীদের বাতিঘর শ্যামনগরের ‘জয়াখালি নারী সংগঠন’: নেপথ্যে নাজমুন নাহার
নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্যামনগর |
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী কৈখালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম জয়াখালি। এই গ্রামের নামেই গড়ে ওঠা ‘জয়াখালি নারী সংগঠন’ আজ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য এক আশার আলো। ২০১২ সালে মাত্র কয়েকজন বাঘবিধবা ও হতদরিদ্র নারীকে নিয়ে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ৬৬০ ছাড়িয়েছে।

সংগ্রাম থেকে সাফল্যের পথে
২০১২ সালে উপকূলীয় অঞ্চলের বাঘবিধবা, অসহায় ও বয়স্ক নারীদের একত্রিত করে সংগঠনটির ভিত্তি স্থাপন করেন স্থানীয় গৃহিণী নাজমুন নাহার। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত এসব নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিস্তৃত কার্যক্রম ও মানবিক উদ্যোগ
জয়াখালি ছাড়িয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম এখন ছড়িয়ে পড়েছে রমজাননগর, ঈশ্বরীপুর, নূরনগর, মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নে। সংগঠনটি বিশেষভাবে কাজ করছে প্রতিবন্ধী, ভূমিহীন, নদীভাঙন কবলিত এবং স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের নিয়ে।
সম্প্রতি আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে সংগঠনের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। নাজমুন নাহারের নেতৃত্বে সদস্যরা এখন শুধু নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনই নন, বরং সামাজিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণের মতো পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
“আমরা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কাজ করি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এমনকি মুন্ডা সম্প্রদায়ের অসহায় নারীরাও এখানে একত্রিত। আমাদের লক্ষ্য—কেউ যেন সমাজে অবহেলিত না থাকে।”
— নাজমুন নাহার, পরিচালক
সরকারি সহায়তা ও স্বীকৃতি
সংগঠনটির স্বচ্ছতা ও মানবিক কার্যক্রমের কারণে ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে আর্থিক অনুদান ও সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। এই সহায়তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ৬৬০ জন সদস্যকে নিয়ে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন নাজমুন নাহার।
অসহায় নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার এই উদ্যোগ এখন পুরো জেলায় প্রশংসিত একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

