৩ মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনে জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ
দীর্ঘ ৯০ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় জেলে, বাওয়ালি ও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতিপত্র দেওয়া শুরু হয়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালী, কোবাতক ও কদমতলা বন স্টেশন অফিস থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য জেলে, বাওয়ালি ও পর্যটকদের অনুমতিপত্র প্রদান করা হয়।

মাছ ও কাঁকড়ার প্রজনন বৃদ্ধি এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে সরকার তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে পুনরায় বনজ সম্পদ আহরণ ও পর্যটনের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে প্রবেশের সময় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেলেরা। গাবুরা ইউনিয়নের পেশাদার জেলে ফিরোজ আলী, গোলাম ফারুক, আজম আলী ও জুলফিকারসহ অনেকে জানান, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য প্রবেশের আগে বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
জেলেদের অভিযোগ, বনদস্যুদের দাবি—সুন্দরবনে প্রবেশ করতে হলে টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন করা হবে। সুন্দরবনের হিংস্র প্রাণীর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা গেলেও বনদস্যুদের হাত থেকে নিরাপদ থাকা কঠিন বলে তারা জানান।
এ অবস্থায় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সুন্দরবননির্ভর জেলেরা।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবনে জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তার জন্য টহল জোরদার করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও চারটি স্টেশন অফিস থেকে ২০ জন পর্যটক এবং ৩০ জনের বেশি জেলে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতিপত্র গ্রহণ করেছেন।

