শ্যামনগরে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার লাভ করেছে। হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের অলিগলিতে মাদকসেবীদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। উচ্ছৃঙ্খল ও স্বভাবচরিত্রে হিংস্র হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ টুঁ-শব্দ করার সাহস পাচ্ছেন না। স্কুল-কলেজের ছাত্র থেকে শুরু করে উঠতি বয়সের যুবকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মানুষ সন্ধ্যার পর স্পটে স্পটে মাদক সেবন করে বুঁদ হয়ে থাকেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা সদরসহ ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্পট ঘুরে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্যের চিত্র পাওয়া গেছে। উপজেলা পৌর সদরের বাস টার্মিনাল, আতরজান মহিলা কলেজসংলগ্ন মাঠ, জমিদারবাড়ি মাঠ, সোনারমোড়সংলগ্ন মাঠ, বাদঘাটা বিল ও গোপালপুর পিকনিক কর্নারের আশপাশে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মাদকসেবীরা মাদক সেবনে মত্ত থাকে।

এ ছাড়া ভুরুলিয়ার চালতেঘাটা বাজার, খানপুর স্ট্যান্ড, বাঁশীপুর বাসস্ট্যান্ড, কালিমন্দির চত্বর, ঋষিপাড়া, জেলেখালী মোড়, হরিনগর বাজারসংলগ্ন ওয়াপদা সড়ক, যতীন্দ্রনগর সুন্দরবন বাজার, পাশেরখালী ব্রিজ, বড়ভেটখালী খালের গোড়া, চুনকুড়ি খালের গোড়া, ভেটখালী বাজার, কৈখালী সীমান্তবর্তী জাদা বাজার, ৫ নদীর মোহনা, কাশিমাড়ী বাজার, নওয়াবেঁকী বাজার, হাওয়ালভাঙ্গী মোড়, নূরনগর বাজার মোড়, গ্যারেজ বাজার মোড়, কলবাড়ী বাজার, মুন্সিগঞ্জ বাজার, নীলডুমুর বাজার, পাখিমারা খেয়াঘাট মোড়, গড়কুমারপুর বাজার, গাবুরা বাজার, চাঁদনীমুখা, ডুমুরিয়া ওয়াপদাসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় কালভার্টের ওপর রাত-দিন মাদক সেবনের মহোৎসব চলে।
শ্যামনগর ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় সহজেই মাদক পাওয়া যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। মাদক কারবারিরা সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদক এনে উপজেলার বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ করে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক কারবারিদের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তির সংখ্যা বাড়ছে। মাদক নিয়ে এলাকার অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম জানান, ইউনিয়নের পাঁচটি স্পট দিয়ে রাতের আঁধারে ভারত থেকে পাচারকারীরা মাদক নিয়ে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত তিন মাসে বিভিন্ন স্পট থেকে ১৫৪ পিস ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ ১৯ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে থানায় মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

