শ্যামনগরে ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে এলেন বিএনপি নেতা
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকা প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের জরুরি সংস্কারে স্বেচ্ছাশ্রমে মাঠে নেমেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী শাহ আলম।
তাঁর উদ্যোগ ও নির্দেশনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, ভ্যানশ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রোববার (৩০ আগস্ট) পরানপুর হাটখোলা থেকে ভেড়ার হাট পর্যন্ত সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সংস্কারকাজ করা হয়। একই সঙ্গে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা গাছপালা অপসারণ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পরানপুর হাটখোলা থেকে ভেড়ার হাট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছিল। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফলে যাত্রী ও পণ্যবাহী ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।
বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও ভ্যানশ্রমিকদের প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক ব্যবহার করতে হতো। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগত, অন্যদিকে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ছিল।
এ অবস্থায় স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়কটির জরুরি সংস্কারে উদ্যোগ নেন গাজী শাহ আলম। তাঁর আহ্বানে ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মী, ভ্যানশ্রমিক এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারকাজে অংশ নেন।
সংস্কারকাজের সময় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশে মেরামতের পাশাপাশি রাস্তার ওপর ও আশপাশে থাকা চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালাও অপসারণ করা হয়। এতে সড়কটির বেশ কিছু অংশ আপাতত চলাচলের উপযোগী হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় একাধিক ভ্যানশ্রমিক বলেন, সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ থাকায় যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চলাচল করতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় রাস্তার কোথায় কতটা গর্ত রয়েছে তা বোঝা যেত না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ত। স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারের ফলে আপাতত চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরানপুর হাটখোলা থেকে ভেড়ার হাট পর্যন্ত সড়কটি কৈখালী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলোর একটি। আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছিল।
তবে স্থানীয়দের মতে, স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে করা এ সংস্কার তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি টেকসই করতে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও উন্নয়নকাজ। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা আশা করছেন, জনসাধারণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। এতে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও ভ্যানশ্রমিকদের দুর্ভোগও কমবে।
এদিকে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণে অংশ নেওয়া ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মী, ভ্যানশ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উদ্যোগসংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের সম্মিলিত অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথটি সাময়িকভাবে হলেও চলাচলের উপযোগী হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

