সাতক্ষীরার জিদান ৫০০০ শিশুর হয়ে ৩০ তম COP সম্মেলনে প্রতিনিধিন্ত করতে যাচ্ছে ব্রাজিলে

COP-30 সম্মেলনে বাংলাদেশের শিশু প্রতিনিধি নুর আহমেদ জিদান: জলবায়ু ন্যায্যতার জন্য বিশ্বমঞ্চে উপকূলের কণ্ঠস্বর সাতক্ষীরা: জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের শিশুদের পক্ষ থেকে তাদের দাবি ও প্রত্যাশা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে ব্রাজিলের বেলেম শহরে অনুষ্ঠিতব্য COP-30 সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছে সাতক্ষীরার নুর আহমেদ জিদান। কেন্দ্রীয় শিশু ফ্রম জাগ্রত যুব সংঘ (JJS)-এর সভাপতি হিসেবে এই তরুণ প্রতিনিধি শুধু তার নিজ এলাকা নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরবে। এই যাত্রা জলবায়ু ন্যায্যতার জন্য বাংলাদেশের শিশুদের এক জোরালো কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে। নুর আহমেদ জিদান, সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, শ্যামনগর মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের যতীন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা জি.এম. রইসউজ্জামান এবং মা মোছাঃ লায়েকা খানম, মাতা সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। আগামী ১০-২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এই বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নুর আহমেদ জিদান এবং তার দল এই কার্যক্রমে জাগ্রত যুব সংঘ (JJS), চিলড্রেন ফোরাম অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিআরআর এবং KNH-BMZ-এর সহযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।  বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, যা ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন এবং লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার, সেখানকার শিশুরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব, বাল্যবিবাহ, শিক্ষার সুযোগ হারানো, অপুষ্টি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো সমস্যাগুলো তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। COP-30 সম্মেলনে নুর আহমেদ জিদান এসব সমস্যা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে। সে তার বক্তব্যে শুধু বাংলাদেশের শিশুদের বর্তমান দুর্ভোগের কথা বলবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বনেতাদের কাছে সুস্পষ্ট দাবি জানাবে। সে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সংকট তুলে ধরে জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাবে। এই সম্মেলনকে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নুর আহমেদ জিদান-এর মতো একজন তরুণ প্রতিনিধির মাধ্যমে জলবায়ু আলোচনায় শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জলবায়ু নীতি নির্ধারণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা যায়। এটি প্রমাণ করবে যে জলবায়ু সংকটের সমাধানে শিশুদের মতামত শোনা এবং তাদের দাবি মেনে নেওয়া অপরিহার্য। নুর আহমেদ জিদান-এর এই আন্তর্জাতিক যাত্রা শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের সকল শিশুর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। এই সম্মেলন শেষে সে তার অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের অন্য শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়াতে কাজ করবে।

- Advertisement -

এই বিভাগের আরও সংবাদ