শ্যামনগরে অপপ্রচার, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে নারীর সংবাদ সম্মেলন
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চম্পা মল্লিক (৩৫) নামে এক নারী।
শনিবার (৮ আগস্ট) শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। চম্পা মল্লিক উপজেলার হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং দীলিপ মল্লিকের মেয়ে।

লিখিত বক্তব্যে চম্পা মল্লিক অভিযোগ করেন, গত ৬ আগস্ট থেকে তাকে জড়িয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ভিত্তিহীন, কুরুচিপূর্ণ তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চম্পা মল্লিক জানান, স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে তিনি বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার রায় তার পক্ষে হয়েছে এবং অপরটি বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, চলমান মামলা তুলে নিতে তাকে চাপ প্রয়োগ এবং ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত সোমবার অফিসের দায়িত্ব পালন শেষে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে একটি প্রশিক্ষণ সভা থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক পরিচিত যুবকের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়। পরে ওই যুবক বাজারের কিছু জিনিস নিয়ে তার বাড়িতে আসেন। এসময় কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেয়। পরে আরও ১২-১৪ জন ব্যক্তি সেখানে এসে ওই যুবককে মারধর ও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চম্পা মল্লিকের অভিযোগ, ওই সময় তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং সিগারেটের আগুন দিয়ে পোড়ানোর চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। এসময় ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করা হয়। পাশাপাশি তার মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা, এনজিও কার্যক্রমের অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেছিল বলেও দাবি করেন চম্পা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তার দাবি, ভিডিওটি সম্পূর্ণ বিকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চম্পা মল্লিক কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। তারা হলেন—সাইফুল ইসলাম (পিতা গুটি খলিল), নজু (পিতা ওসমান মোল্ল্যা), ওবায়দুল্লাহ গাইন (পিতা ইয়া গাইন) এবং রবিউল ইসলাম (বাবু) (পিতা আমজাদ শেখ)।
ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে চম্পা মল্লিক বলেন, ঘটনার সাক্ষীরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তিনি দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে সত্যতা যাচাই করার জন্য সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

