শ্যামনগরে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট কৈখালী সীমান্ত, অধরাই গডফাদাররা
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী সীমান্ত এলাকা দিন দিন ভারতীয় মাদক পাচারের অন্যতম নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তবর্তী শিবচন্দ্রপুর, নিদয়া, কৈখালী, শৈলখালী, নৈকাটি, কালিঞ্চী, গোলাখালী, পরানপুর ও কাটামারী গ্রাম দিয়ে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক এনে স্থানীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে কিছু চালান জব্দ হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের সীমান্তের বিপরীতে ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ঘুমটি, পার ঘুমটি, চাড়ালখালী, কালিনগর, সমসেরনগর ও হিঙ্গলগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ মাদক উৎপাদন কেন্দ্র। অভিযোগ রয়েছে, এসব কারখানায় নিম্নমানের ফেনসিডিল, ইয়াবা, এনকোরেক্স সিরাপ, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ উৎপাদন করে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এসব মাদক বাংলাদেশে সরবরাহের উদ্দেশ্যেই উৎপাদন করা হচ্ছে।

স্থলপথে নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রতি চোরাকারবারিরা সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীপথকে ব্যবহার করছে। নদীপথে মাদক এনে তা স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি র্যাব-৬, সাতক্ষীরার একটি অভিযানে সুন্দরবনের চুনা নদী থেকে নৌকাভর্তি প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দুইজন পাচারকারী আটক হলেও মূল হোতা পালিয়ে যায়। এছাড়া গত ১৫ জুন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কৈখালী স্টেশনের অভিযানে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদক উদ্ধার করা হলেও কোনো পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, প্রতিনিয়ত ইউনিয়নের শিবচন্দ্রপুর, নিদয়া, কৈখালী, শৈলখালী, নৈকাটি, কালিঞ্চী, গোলাখালী, পরানপুর ও কাটামারী গ্রাম দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে স্থানীয় চোরাকারবারিরা মোটরসাইকেলে করে এসব মাদক দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় মাদক পাচারকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে মাদক পাচারকারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কেউ কেউ আটক হলেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে নীলডুমুর ১৭ বিজিবির অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সোহল আব্দুল্লাহ বলেন, সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। গত তিন মাসে বিজিবির অভিযানে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং তিনজন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। সীমান্তে মাদক পাচার রোধে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

